Login Area

   
Not Member ? SignUP Now  
Forgot Password?

Course Three

পাঠ ৩ আমরা আমাদের নিজেদের উদ্ধার করতে পারি না

গুনাহ্রে সমস্যা যখন আমাদের জীবনে আসে, তখন আমরা প্রকৃতপক্ষে তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কি কিছু করতে পারি? সত্যিকার অর্থে দেখা যায় যে, মানুষের নিজের কোন চেষ্টা সেখানে সফলতা নিয়ে আসতে পারে না।
আমাদের অবশ্যই শেষ পর্যন্ত খোদার দেয়া সমাধানের দিকেই দৃষ্টিপাত করতে হবে। আমরা পাঠ ৩ এর মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারি। তাহলো “গুনাহ্ ও মৃত্যু” এই উভয় সংকট হতে আমরা নিজেদের উদ্ধার করতে অক্ষম। যেভাবে তিক্ত পানির ফোয়ারা থেকে মিষ্টি পানি পাওয়া যায় না, ঠিক একইভাবে আমাদের ভাল কাজ দ্বারা আমরা নিজেদেরকে গুনাহ্ থেকে উদ্ধার করতে পারি না। অনেকে মনে করে থাকে, “ভাল কাজ” বা “একটি ভাল জীবন” আমাদেরকে গুনাহ্ থেকে উদ্ধার করতে পারে। ভাল কাজের দ্বারা নাজাত বা উদ্ধার পাবার বিষয়ক ধারণার উপর পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দসে অনেক আয়াত আছে যা একে অন্যের সাথে একমত পোষন করে না।
নবীদের কিতাব; মেসাল ১৪ ঃ ১২ আয়াত- একটা পথ আছে যেটা মানুষের চোখে ঠিক মনে হয়, কিন্তু সেই পথের শেষে থাকে মৃত্যু।
আল-জবুর; ১২৫ ঃ ৫ আয়াত কিন্তু যারা নিজের তৈরি বাঁকা পথে উছোঁট খেতে খেতে চলে, মাবুদ অন্যায়কারীদের সংগে তাদের দূর করে দেবেন।
ইঞ্জিল শরীফ; তীত ৩ ঃ ৪-৫ আয়াত কিন্তু যখন আমাদের নাজাতদাতা খোদার রহমত ও মহব্বত প্রকাশিত হলো তখন তিনি আমাদের নাজাত দিলেন। কোন সৎ কাজের জন্য তিনি আমাদের নাজাত দেন নি, তাঁর মমতার জন্যই তা দিলেন। পাক্-রূহের দ্বারা নতুন জন্ম দান করে ও নতুন ভাবে সৃষ্টি করে তিনি আমাদের অন্তর ধুয়ে পরিষ্কার করলেন, আর এইভাবেই তিনি আমাদের নাজাত দিলেন।
আল-কোরআন; সূরা আনআম ৭০ আয়াত যারা তাদের দীনকে (অর্থাৎ কর্মফলকে) ক্রিয়া কৌতুকরূপে গ্রহণ করে এবং পার্থিব জীবন যাহাদিগকে প্রতারিত করে তুমি তাদের সংগ বর্জন কর এবং ইহা (অর্থাৎ আল-কোরআন) দ্বারা তাহাদিগকে উপদেশ দেও, যাতে কেহ নিজ কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস না হয়, যখন আল্লাহ ব্যতীত তার কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না এবং বিনিময়ে সবকিছু দিলেও তা গৃহীত হবে না। ইহারাই নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস হবে।
সাধারণত মানুষ তার নিজের গুনাহ্কে ভাল কাজের দ্বারা দূর করতে পরিকল্পনা করে থাকে। ভাল কাজ বলতে যা বুঝায় তাহলোথ ধর্মীয় অনুশীলন, মানব কল্যানমূলক কাজ এবং রাজনৈতিকভাবে সেবামূলক কাজ, ইত্যাদির মাধ্যমে তার সমস্ত খারাপ কাজগুলোকে ঢেকে রাখতে চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু মানুষ ভুলে যায়, যদিও সে একজন গুনাহ্গার, তবুও একমাত্র ধার্মিকতাই তাকে অপবিত্র জীবন থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে, নিজের সৃষ্ট ধার্মিকতায় পবিত্রতা অজর্ন করা সম্ভব নয়। নবীদের কিতাব; ইশাইয় ৬৪ ঃ ৬ আয়াতে লেখা আছে আমরা প্রত্যেকে নাপাক লোকের মত হয়েছি, আর আমাদের সব সৎকাজ (ধার্মিকতা) নোংরা কাপড়ের মত।
একজন মানুষ তার গুনাহপূর্ণ জীবনে পরিশ্রান্ত এবং দুঃখার্ত হয়ে কোন এক ধার্মিক বন্ধুর কাছ থেকে উপদেশ নিবার সিদ্ধান্ত নিল। যখন সেই লোক তার ধার্মিক বন্ধুর কাছে আসল, সাথে সাথে তার অপরাধবোধ, নৈরাশ্য এবং ভয় থাকে যে দিনরাত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাল। আর সে তার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করল, “এ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি এবং মনে শান্তি ও সুখ পাবার জন্য আমাকে কি কাজ করতে হবে?”
বন্ধু তার প্রশ্নের উত্তর দিবার আগে তার পরিশ্রান্ত অতিথির জন্য ঠান্ডা পানি আনতে তার কর্মচারীকে আদেশ করল। কর্মচারী দ্রুত পানি নিয়ে আসল। কিন্তু ঐ পানীয় অতিথিকে দিবার আগে গৃহকর্তা বন্ধুটি পানির মধ্যে বেশ কয়েক ফোটা কালি দিয়ে দিল, যার ফলে পানীয় সম্পূর্ণ কাল রং ধারণ করল। অতিথি বন্ধুটি জিজ্ঞাসা করল, “তুমি এ কি করতেছ?”
গৃহকর্তা বন্ধুটি উত্তর দিলেন, “তোমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি মাত্র।” সে আরো বলল, “আমি কয়েক ফোটা কালি দিয়ে পানিকে নষ্ট করেছি বলেই, তুমি তা গ্রহণ করতে পারলে না। অথচ, তোমার হৃদয় ও মনকে গুনাহ্ দ্বারা কলুষিত করে এখন আশা করছ, তোমার ভাল কাজ যেন খাঁটি ও পবিত্র খোদার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।”
অতিথি বন্ধুটি এই শিক্ষা বুঝতে পারল এবং সাথে সাথে সে খোদার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলল, যেন তিনি তার গুনাহ্ ক্ষমা করেন। গুনাহ্রে শাস্তি যে কত কঠিন তা যখন সে বুঝতে পারল, তখন সে গুনাহ্ থেকে ক্ষমা লাভের জন্য খোদার যে সুসংবাদ তা খুঁজতে লাগল।
আমরা জানি, একজন গুনাহ্গারের ভাল কাজ খোদার কাছে গ্রহণ যোগ্য হবে না। কারণ মানুষ তার কাজ দিয়ে খোদাকে সন্তষ্ট করতে পারবে না। কিন্তু তাকে অবশ্যই খোদার উপরে এবং তিনি যা বলেছেন তার উপরে নির্ভর করতে হবে। খোদার সামনে নিজেকে নম্র করা ও তার সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আসুন, গুনাহ্রে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস কি বলে তা আমরা দেখি।
আল-তৌরাত; পয়দায়েশ ১৫ ঃ ৬ আয়াত ইব্রাম [হযরত ইব্রাহিত (আঃ)] মাবুদের কথার উপর ঈমান আনলেন আর মাবুদ সেইজন্য তাঁকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করলেন।
নবীদের কিতাব; ২ খান্দাননামা ২০ ঃ ২০ আয়াত আপনারা আপনাদের মাবুদ খোদার উপর ভরসা করুন, তাহলে আপনারা স্থির থাকতে পারবেন। তাঁর নবীদের উপর ঈমান রাখুন, তাতে আপনারা সফল হবেন। হবককুক ২ ঃ ৪ আয়াত ধার্মিক ব্যক্তি আপন বিশ্বাস দ্বারা বাঁচিবে।
আল-জবুর; ১৩ রুকু ৫ আয়াত কিন্তু আমি তোমার অটল মহব্বতের উপর ভরসা করেছি; আমার অন্তর তোমার নাজাতে আনন্দিত হবে। ৩২ রুকু ১ আয়াত মোবারক সেই লোক, যার অধর্ম ক্ষমা হয়েছে; যার গুনাহ্ ঢেকে রাখা হয়েছে। ৮৫ রুকু ৭-৯ আয়াত হে মাবুদ, তোমার অটল মহব্বত তুমি আমাদের দেখাও, আর আমাদের উদ্ধার কর। ..... যারা তাঁকে ভয় করে সত্যিই তাঁর উদ্ধার করার সময় তাদের কাছে এসে গেছে।
ইঞ্জিল শরীফ; রোমীয় ১৪ ঃ ১৩ আয়াত ঈমানের বিরুদ্ধে কোন কিছু করাই গুনাহ্। ইফিষীয় ২ ঃ ৮-৯ আয়াত খোদার রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ। এটা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা খোদার-ই দান। এটা কাজের ফল হিসাবে দেয়া হয় নি, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে। ইব্রাণী ১১ ঃ ৬ আয়াত ঈমান ছাড়া খোদাকে সন্তষ্ট করা অসম্ভব, কারণ খোদার কাছে যে যায়, তাকে ঈমান আনতে হবে যে, খোদা আছেন এবং তাঁকে যারা অন্তর দিয়ে খোঁজে, তিনি তাদের ফিরায়ে দেন না।
আল-কোরআন; সূরা মুমিনূন ১০৯ আয়াত আমার বান্দাগনের মধ্যে একদল ছিল যারা বলিত, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”
সূরা মুমিনূন ১০৯ আয়াতের মূল কথা হলো, কিছু লোক সে সময় ছিল যারা বুঝতে পেরেছিল তাদের অবশ্যই খোদার দয়ার উপরে নিজেদেরকে সঁপে দিতে হবে। কারণ খোদার দয়া লাভের জন্য তাদের নিজের কৃত কাজকর্ম যথেষ্ট নয়। এই কারণে পবিত্র কোরআন, সূরা আনআম ৫৪ আয়াতে আরো বললেন, “যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনে তারা যখন তোমার নিকট আসে তখন তাহাদিগকে তুমি বলিও ঃ তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক; তোমাদের প্রতিপালক, দয়া করা তাঁর কর্তব্য বলিয়া স্থির করেছেন। তোমাদের মধ্যে কেহ অজ্ঞতাবশত মন্দকার্য্য, অতঃপর তওবা করে এবং সংশোধন করে তবে তো আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” সুতরাং আমাদেরকে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, উপরোল্লেখিত আয়াতসমূহ অনুসারে খোদার উপরে ঈমান এনে এবং তাঁর দয়ায় ক্ষমা পাওয়া যায়।
সূরা মোহাম্মদ ১৯ আয়াত সুতরাং জানিয়া রাখ, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার [অর্থাৎ হযরত মোহাম্মদ (সঃ)] এবং মুমিন (পরহেজগার) নর-নারীদের ক্রটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন।
পবিত্র কোরআনের এই আয়াত অনুসারে ইহা স্পষ্ট যে, কেউ ক্ষমার প্রয়োজনীয়তা থেকে নিস্কৃতি পাবে না। এমন কি নবী রসুলগন পর্যন্তও নয়।
সূরা বাকারা ২৫৬-২৫৭ আয়াত দীন সম্পর্কে জোর-জবর দস্তি নাই; সত্যপথ ভ্রান্তপথ হতে সুষ্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে (অর্থাৎ দেবতাকে) অস্বীকার করবে ও আল্লাহ্ েঈমান আনবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে যা কখনও ভাঙ্গবে না। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়। যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে বাহির করে আলোতে লয়ে যান।
উপরোক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, কাউকে জোরপূব্বর্ক খোদার পথে নিয়ে আসা যায় না। কিন্তু আমাদের নিজেদেরকেই সিন্ধান্ত নিতে হবে যে, আমি খোদার পথে চলব নাকি অন্য পথে চলব? খোদার উপর ঈমান আনার সিদ্ধান্ত যিনি নিবেন তিনি এমন এক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, যেন তিনি “মজবুত হাতল ধরল।” খোদা নিজেই আমাদের রক্ষাকর্তা যা আমাদের ভাল কাজের জন্য নয়। খোদা নিজেই আপনার আমার নাজাতদাতা। তাঁর আশ্চর্য্য নূরের মধ্য দিয়ে তিনি অন্ধকার হতে মানুষকে বের করে নিয়ে আসেন।
আল-কোরআন সূরা আল-ইমরান ১৯৩ আয়াত হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক আহবায়ককে ঈমানের দিকে আহবান করতে শুনেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন। সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দকার্য গুলো দূরীভূত কর এবং আমাদিগকে সৎকর্ম পরায়নদের সহগামী করে মৃত্যু দিও।
খুবই পরিষ্কার করে এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, “ঈমানের মধ্য দিয়ে অতীত এবং বর্তমানের গুনাহ্রে ক্ষমা লাভ করা যায়।” এখন যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় যে, আপনার গুনাহ্পূর্ণ জীবন পরিবর্তন করার অথবা একটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য আপনি কতবার চেষ্টা করেছেন? আমরা জানি, আপনি আমি এমনকি আমরা সবাই গুনাহ্গার। কিন্তু অনেক গুনাগহ্গার খোদার দয়া ও সাহায্যের মধ্য দিয়ে তারা তাদের গুনাহ্রে ক্ষমা লাভে সফল হয়েছে। আপনিও কি সেই সমস্ত লোকদের মত একজন হতে চান?
পরবর্তী পাঠে আমরা আলোচনা করব “কিভাবে ক্ষমা গ্রহণ করা যায়।” আপনি এই মাত্র যে পাঠটি মনোযোগ সহকারে শেষ করেছেন তার সাথে সংযুক্ত প্রশ্নপত্রটি পূরণ করে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।
ইতিমধ্যে আপনি তিনটি পাঠ সফলতার সাথে শেষ করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এরমধ্যে দিয়ে আসমানি কিতাব থেকে অনেক শিক্ষা লাভ করতে পেরে আপনি আপনার রূহানিক জীবনেও উপকৃত হচ্ছেন।
খোদা আপনাকে তাঁর কালাম আমল করার তৌফিক দান করুন। আমেন।

 Start Exam