Login Area

   
Not Member ? SignUP Now  
Forgot Password?

Course Four

পাঠ ৪ জীবনের সেতু হল সলীব

যদিও আমরা আপাতঃ দৃষ্টিতে গুনাহ্ এবং মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত অবস্থায় আছি, তবুও সেখানে এখনো আশা আছে। আমরা এখন পাঠ ৪ এ জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোকপাত করতে যাচ্ছি ঃ এই উভয় সংকটের একটা সমাধান খোদা আমাদের জন্য করে দিয়েছেন।
আমাদের সমস্ত বিষয়ে খোদার উপর ভরসা করা উচিত। সমস্ত সৃষ্টি তাঁর সম্মুখে। তিনি সমস্ত কিছু জানেন এবং দেখেন। আমরা যখন অসম্ভব কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, তখন মাত্র একজনই আছেন যিনি সেই অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করতে পারেন।
খোদা একটিমাত্র কারণে বিশ্বমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, যেন সেই সৃষ্টির সাথে যারা তাঁর গুণাবলী (প্রতিমূর্তি) বহন করবে তাদের সাথে তিনি সুন্দর সর্ম্পক বজায় রাখতে পারেন। এমনকি হযরত আদম (আঃ) এবং বিবি হাওয়া (আঃ) এর মধ্য দিয়ে আমরা যখন গুনাহের অন্ধকারে নিমজ্জিত তখনও তিনি আমাদেরকে ভুলে যান নি। বরং আমরা যখন নিজেদের গুনাহ থেকে মুক্ত করতে পারছিলাম না, তখন তিনি নিজের পরিকল্পনা অনুসারে আমাদেরকে গুনাহ্ থেকে উদ্ধার করার কাজ সম্পন্ন করলেন। আমরা নিজেরা যা আমাদের জন্য করতে পারি নাই স্বয়ং খোদা তা আমাদের জন্য করেছেন, সেই বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দসের অনেক অংশে বর্ণনা করা হয়েছে। তাহলো তিনি এক মহান কোরবানীর মধ্য দিয়ে আমাদের গুনাহ্রে সমস্যার সমাধান করেছেন।
নবীদের কিতাব; ইশাইয়া ১৯ ঃ ২০ আয়াত তাদের জুলুমবাজদের দরুন তারা যখন মাবুদের কাছে কাঁদবে তখন তিনি তাদের কাছে একজন উদ্ধারকর্তা ও সাক্ষ্যকারীকে পাঠিয়ে দিবেন এবং তিনি তাদের উদ্ধার করবেন।
আল-জবুর; ৪৯ রুকু ৭-৯ আয়াত কেউ কোনমতেই মৃত্যু থেকে কাউকে মুক্ত করতে পারে না, কিংবা খোদাকে তার মুক্তির মুল্য দিতে পারে না। কারণ জীবন কেনার দাম অনেক, সেই দামের সমান কিছুই নেই।
এই পৃথিবীতে এমন কোন কিছু নেই যা দিয়ে একজন তার গুনাহের শাস্তির দাম পরিশোধ করতে পারবে। এটা এক বিরাট কাজ যা কোন মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।
ইঞ্জিল শরীফ; রোমীয় ৩ ঃ ২০ আয়াত- শরিয়ত পালন করলেই যে খোদা মানুষকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করবেন তা নয়, কিন্তু শরিয়তের মধ্য দিয়েই মানুষ নিজের গুনাহ্রে বিষয়ে চেতনা লাভ করে। ইফিষীয় ২ ঃ ৮-৯ আয়াত খোদার রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ। এটা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা খোদারই দান। এটা কাজের ফল হিসেবে দেয়া হয় নি, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে।
আল-কোরআন; সূরা সাফ্ফাত ১০৭ আয়াত আমি (খোদা) তাকে [হযরত ইব্রাহিম (আঃ)] মুক্ত করলাম এক মহান কুরবাণীর বিনিময়ে।
আরবী ভাষায় “মহান” শব্দের অর্থ হল, যার কোন সীমাবদ্ধ মূল্য নেই। আর তাই আমাদের হাজারো সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে আমরা নিজেকে গুনাহ্ থেকে মুক্ত করতে পারি না। সেজন্য মানুষকে নাজাত লাভ করতে হলে অবশ্যই খোদার দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে, কারণ তিনিই একমাত্র খোদা যিনি মানুষকে উদ্ধার করার জন্য এক মহান কোরবাণীর ব্যবস্থা করেছেন।
একটি গল্পের মাধ্যমে বিষয়টি আরো পরিষ্কার করে বুঝা যায়। গল্পটি অনেকটা এরকম
একজন লোককে তার কোম্পানীর টাকা চুরি করার দায়ে বিচারের জন্য আদালতে হাজির করা হলো। আদালতে বিচারক যখন স্বাভাবিক বিচারকার্য্যরে প্রশ্নোত্তর করছিলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন সেই লোক তার ছোট বেলার বন্ধু। এই পরিচিতিতে বিচারক উভয় সংকটে পড়লেন। উপস্থিত সময়ে তার বন্ধুর জন্য তার এমন মনে হলো যে, যেন তিনি তার বন্ধুর কৃত অপরাধের জন্য প্রাপ্য শাস্তি না দেন। কিন্তু অন্যদিকে চিন্তা করলেন যে, ক্ষতিগ্রস্থ কোম্পানীর জন্য এটা ন্যায় বিচার হবে না, যেহেতু আসামী সত্যিকার অর্থে-ই দোষী।
অনেকক্ষণ বিচারক চিন্তা করার পর, তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সেই লোক যত টাকা চুরি করেছিল তার সব তিনি নিজে কোম্পানীর প্রতিনিধিকে পরিশোধ করে দিবেন, এবং বিচারক তা-ই করলেন। ফলে কোম্পানীর প্রতিনিধি বিচারে সন্তষ্ট হয়ে চলে গেলেন। আর আসামী বন্ধুটি নিজে মুক্ত হয়ে গেল এবং তার অবশিষ্ট জীবন সে বিচারকের কাছে কৃতজ্ঞ রইল।
ঠিক একইভাবে আমরাও আমাদের গুনাহ্রে শাস্তি পাবার যোগ্য। কিন্তু আমাদের প্রতি খোদার মহান মহব্বতের জন্য তিনি আমাদের গুনাহ্রে প্রাপ্য শাস্তি তিনি নিজে সলীবের উপরে এক মহান কোরবাণীর মাধ্যমে দান করলেন। খোদা যেমনি মহান দয়ালু তেমনি তিনি একজন ন্যায় বিচারক। ইঞ্জিল শরীফ; রোমীয় ৩ ঃ ২৬ আয়াতে এ কথা বলা হয়েছে “তিনি যে ন্যায়বান তা তিনি এখন দেখিয়েছেন যেন প্রমাণ হয় যে, তিনি নিজে ন্যায়বান এবং যে কেউ ঈসার উপর ঈমান আনে তাকেও তিনি ধার্মিক বলে গ্রহণ করেন।”
সলীবের তাৎপর্যকে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মৌলিক যে ধারণা তা হলো একজনের অন্যায়ের জন্য অন্য একজনকে মূল্য হিসেবে কিছু পরিশোধ করা। একজন বন্দীকে মুক্ত করতে হলে বিনিময়ে কিছু মূল্য পরিশোধ করতে হয়। একইভাবে আমরা সবাই গুনাহ্রে কাছে বন্দি। সুতারাং সলীব হলো সেরকম একটি বিনিময় মূল্য যা আমাদেরকে গুনাহ্রে বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করে। নিুে উল্লেখিত পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস এর আয়াতসমূহ দ্বারা বুঝা যয় যে, খোদা মানুষকে গুনাহ্ থেকে উদ্ধার করার জন্য বিনিময় মূল্য হিসেবে এক মহান মূল্যের ব্যবস্থা করেছিলেন।
আল-তৌরাত; পয়দায়েশ ২২ ঃ ১৩ আয়াত ইব্রাহিম তখন চারিদিকে তাকালেন এবং দেখলেন তাঁর পিছনে একটা ভেড়া রয়েছে আর তার শিং ঝোপে আটকে আছে। তখন ইব্রাহিম গিয়ে ভেড়াটি নিলেন এবং ছেলের পরিবর্তে সেই ভেড়াটাই তিনি পোড়ানো-কোরবানীর জন্য ব্যবহার করলেন। হিজরত ১২ ঃ ১৩ আয়াত কিন্তু তোমাদের ঘরে যে রক্ত লাগানো থাকবে সেটাই হবে তোমাদের চিহ্ন। আর আমি সেই রক্ত দেখে তোমাদের বাদ দিয়ে এগিয়ে যাব। তাতে মিসর দেশের উপর আমার গজবের বিপদ থেকে তোমরা রেহাই পেয়ে যাবে।
যেমনিভাবে খোদা মিসর দেশে বনী-ইস্রায়েল জাতিকে মহামারীর মৃত্যুর ধ্বংস থেকে রক্ষা করার জন্য একটি নির্দোষ (নিখুঁত) ভেড়ার রক্তকে নির্বাচিত করে দিয়েছিলেন; ঠিক একইভাবে আমাদের গুনাহ্রে শাস্তি যে দোযকে ধ্বংস তার থেকে উদ্ধার করার জন্য সলীবে নির্দোষ, নিখুঁত রক্তের মধ্যে দিয়ে এক মহান কোরবানীর ব্যবস্থা করলেন।
লেবীয় ১৭ ঃ ১১ আয়াত কারণ রক্তেই থাকে প্রাণীর প্রাণ। সেইজন্যই তোমাদের প্রাণের বদলে আমি (খোদা) তা দিয়ে কোরবানগাহ্রে উপরে তোমাদের গুনাহ্ ঢাকা দিবার ব্যবস্থা দিয়েছি। রক্তের মধ্যে প্রাণ আছে বলেই তা গুনাহ্ ঢাকা দেয়।
খোদার পক্ষ থেকে আমাদের গুনাহ্রে পর্যাপ্ত মূল্য হিসেবে নির্দোষ রক্তের প্রয়োজন; আর তাহলো জীবনের বিনিময়ে জীবন। খোদা একটি পশু কোরবাণী করে এবং খাঁটি রক্তের মধ্যে দিয়ে হযরত আদম (আঃ) ও বিবি হওয়া (আঃ) এর গুনাহ্ ঢেকে দিলেন এবং সেই পশুর চামড়া দিয়ে তাঁদের উলঙ্গতা ঢাকলেন (আল-তৌলাত; পয়দায়েশ ৩ ঃ ২১ আয়াত)।
নবীদের কিতাব; ইশাইয় ৬৩ ঃ ৮ আয়াত তিনি বলেছেন, “অবশ্যই তারা আমার বান্দা, তারা এমন সন্তান যারা অবিশ্বস্ত হবে না,” আর সেজন্যই তিনি তাদের উদ্ধারকর্তা হলেন। এরদ্বারা বুঝা যায় যে, খোদা নিজেই তাঁর বান্দাদের উদ্ধারকর্তা।
আল-জবুর; ৩৪ রুকু ২২ আয়াত মাবুদই তাঁর গোলামদের মুক্ত করেন; যারা তাঁর মধ্যে আশ্রয় নেয় তারা কেউই শাস্তি পাবে না। ৩১ রুকু ৫ আয়াত আমি তোমার হাতেই আমার রূহ্ তুলে দিলাম, কারণ হে আল্লাহ্, বিশ্বস্ত মাবুদ, তুমিই আমাকে মুক্ত করেছ। ৫৬ রূকু ১৩ আয়াত- কারণ মৃত্যু থেকে তুমি আমার প্রাণ রক্ষা করেছ, আর পড়ে যাওয়া থেকে আমাকে বাঁচিয়েছ, যাতে জীবনের আলোতে আমি আল্লাহ্র সামনে চলাফেরা করতে পারি।
আমরা দেখি যে, আল-জবুর- ৩৪ ঃ ২২ আয়াতে এ কথ বলা হয়েছে যে, খোদা আমাদের অপরাধ থেকে আমাদিগকে মুক্ত করবেন। এক কথায় বলা যায়, খোদা নিজেই আমাদের গুনাহ্ থেকে মুক্ত ও উদ্ধার করতে পারেন যা আমরা আল-জবুর ৩ ঃ ৫ ও ৫৬ ঃ ১৩ আয়াতে দেখি। এরদ্বারা বুঝা যায় যে, ভাল কাজ করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদেরকে গুনাহ থেকে মুক্ত করতে পারব না। কিন্তু খোদা নিজে আমাদেরকে গুনাহ থেকে উদ্ধার করার মধ্য দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন যে, গুনাহ্রে শক্তি থেকে উদ্ধার পেয়ে জীবনের পথে ফিরে আসা আমাদের প্রয়োজন। ১০৭ রূকু ৬-৭ আয়াত বিপদে পড়ে তারা মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানাল, এতে কষ্ট থেকে তিনি তাদের উদ্ধার করলেন। তিনি সোজা পথ দিয়ে তাদের নিয়ে গেলেন।
এই পৃথিবীতে অনেক লোক আছে যারা দিনে কয়েকবার খোদার কাছে ফরিয়াদ করছে, যেন তিনি তাদের সোজা পথে পরিচালনা করেন। আর পবিত্র কিতাবও এই কথা বলেছেন যে, নাজাত বা গুনাহের ক্ষমা লাভের জন্য আমাদের অবশ্যই একমাত্র খোদার উপর নির্ভর করতে হবে এবং আমাদের নিজের কোন কাজের উপর নয়।
ইঞ্জিল শরীফ; মথি ২৬ ঃ ২৮ আয়াত পেয়ালার এই আংগুর-রস তোমরা সবাই পান কর, কারণ এ আমার (হযরত ঈসা মসীহ্) রক্ত যা অনেকের গুনাহ্রে ক্ষমার জন্য দেয়া হবে। রোমীয় ৩ ঃ ২৩-২৫ আয়াত কারণ সবাই গুনাহ্ করেছে এবং খোদার প্রশংসা পাবার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু মসীহ্ ঈসা মানুষকে গুনাহের হাত থেকে মুক্ত করবার ব্যবস্থা করেছেন এবং সেই মুক্তির মধ্য দিয়েই রহমতের দান হিসেবে ঈমানদারদের ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়। খোদা প্রকাশ করেছিলেন যে, যারা ঈমান আনে তাদের জন্য ঈসা মসীহ্ তাঁর রক্তের দ্বারা, অর্থাৎ তাঁর জীবন কোরবানীর দ্বারা তাঁকে সন্তষ্ট করছেন। এইভাবেই খোদা দেখালেন, যদিও তিনি তাঁর সহ্যগুণের জন্য মানুষের আগেকার গুনাহ্রে শাস্তি দেন নি তবুও তিনি ন্যায়বান।
ইঞ্জিল শরীফ; মথি ২৬ ঃ ২৮ আয়াতে হযরত ঈসা মসীহ্ নিজে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, গুনাহ্রে ক্ষমা লাভের জন্য খাঁটি রক্তের প্রয়োজন রয়েছে। আর রোমীয় ৩ ঃ ২৩-২৫ আয়াতে সেই বিষয়ে আরো গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, আমরা সকলেই গুনাহ্গার এবং আমাদের সকলের গুনাহ্রে থেকে ক্ষমা লাভের প্রয়োজন আছে। আর এই ক্ষমা হযরত ঈসা মসীহের মাধ্যমে পাওয়া যায়, এ ছাড়া অন্যকোন কাজের বিনিমযে নয়। আমাদের প্রতি খোদা কত দয়ালু ও ক্ষমাশীল যে, তিনি হযরত ঈসা মসীহ্রে মাধ্যমে এক মহান কোরবাণী দিয়ে আমাদের সমস্ত গুনাহ্রে ক্ষমা দান করেছেন। সুতরাং আমাদেরকে গুনাহের জন্য আর কোন মূল্য দিবার প্রয়োজন নেই, কারণ সেই মূল্য ইতিমধ্যেই হযরত ঈসা মসীহ্ দিয়েছেন।
আল-কোরআন; সূরা কাসাস ১৬ আয়াত সে [হযরত মুসা (আঃ)] বলিল, “হে আমার প্রতিপালক আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা কর।” অতঃপর তিনি আমাকে ক্ষমা করলেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালূ।
অনেকে মনে করে থাকেন যে, নবীগন কোন গুনাহ্ করে নাই। যেমন- হযরত মূসা (আঃ), হযরত দাউদ (আঃ)। কিন্তু উপরোল্লেখিত পবিত্র কোরআনের আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, একজন নবীরও গুনাহ্রে থেকে নাজাত লাভের প্রয়োজন রয়েছে।
সূরা বাকারা ৩৮ আয়াত- আমি (আল্লাহ) বলিলাম, তোমরা [হযরত আদম (আঃ) ও বিবি হাওয়া (আঃ)] সকলেই এই স্থান হতে নেমে যাও। পরে যখন আমার পক্ষ হতে তোমাদের নিকট সৎপথের কোন নির্দেশ আসবে তখন যারা আমার সৎপথের নির্দেশ অনুসরণ করবে তাদের কোন ভয় নাই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
হযরত আদম (আঃ) ও বিবি হাওয়া (আঃ) গুনাহ্ করার পরেও যখন তাঁরা খোদার কাছ থেকে সাহায্য চাইলেন, তখন খোদার কাছ থেকে তাদের জন্য পথ নির্দেশনা এসেছিল। এরদ্বারা বুঝা যায় যে, খোদা নিজেই তাঁদের নাজাতদাতা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের নিজের কোন কাজের উপর নির্ভর করেন নাই।
সূরা নিসা ১১০ আয়াত কেহ কোন মন্দ কার্য করে অথবা নিজের প্রতি যুলুম করে পরে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ্কে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে। সাধারণতঃ কিছু কিছু লোকের বিশ্বাস হলো, তাদের ভাল কাজের মধ্যে দিয়ে যে নেকি হবে তার দ্বারা মন্দ কাজের যে প্রতিফল তা মুচে গিয়ে খোদার দয়ায় তারা বেহেস্তে যেতে পারবে। কিন্তু উপরোল্লেখিত আয়াত এ কথা বলেছে, তাদের মন্দ কাজের জন্য অবশ্যই তাদেরকে অনুতপ্ত হতে হবে এবং ক্ষমা লাভের জন্য খোদার কাছে ফরিয়াদ জানাতে হবে।
সূরা অনআম ৬৯-৭০ আয়াত উহাদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তাদের নয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করে। তবে উপদেশ দেয়া তাদের কর্তব্য যাতে উহারাও তাকওয়া অবলম্বন করে। যারা তাদের দ্বীনকে ক্রীড়াকৌতুকরূপে গ্রহণ করে এবং পার্থিক জীবন যাহাদিগকে প্রতারিত করে তুমি তাদের সংগ বর্জন কর এবং ইহা দ্বারা তাহাদিগকে উপদেশ দাও, যাতে কেহ নিজ কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস না হয়, যখন আল্লাহ্ ব্যতীত তার কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকিবে না এবং বিনিময়ে সব কিছু দিলেও তা গৃহীত হবে না। ইহারাই নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস হবে।
উপরোল্লেখিত আয়াত অনুসারে খোদার ক্ষমা লাভের জন্য আমাদের নিজেকে খোদার কাছে আসতে হবে। এমনকি খোদার ক্ষমা লাভ করার পরেও আমাদেরকে সর্তকতার সাথে জীবন যাপন করতে হবে, যেন আমরা পুনরায় একই গুনাহ্রে মধ্যে আবদ্ধ না হই।
এ পাঠের মধ্য দিয়ে নিশ্চয় আপনি বুঝতে পেরেছেন যে, আপনি একজন গুনাহ্গার। আর আপনার জন্যও খোদা নাজাতের ব্যবস্থা করেছেন এক মহান কোরবাণীর মধ্য দিয়ে। কারণ, খোদা আপনাকেও ভালবাসেন। তিনি চান যেন আমরা সবাই তাঁর গৌরবের জন্য বেহেস্তে তাঁর সামনে উপস্থিত থাকি। তিনি আমাদেরকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কখনও চান না আমরা কেহ-ই দোযখে যাই।
আপনিও কি তার নাজাত লাভ করতে আগ্রহী? যদি সত্যিই আপনি আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে খোদাকে বলুন, নিশ্চয় তিনি আপনাকে সঠিক পথ দেখাবেন।
পরবর্তী পাঠে আমরা আলোচনা করব “একজন ব্যক্তিই হলো খোদার শরিয়ত।” পাঠ ৪ এর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নপত্রটি পূরণ করে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।

ইতিমধ্যে আপনি পাঠ ৪ সফলতার সাথে শেষ করেছেন বলে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি ধৈর্য্যরে সাথে আপনি পরবর্তী পাঠেও আমাদের সাথে অংশ গ্রহণ করবেন। খোদার বিষয়ে জানার জন্য আপনি যে মূল্যবান সময় ব্যয় করছেন তা নিশ্চয় খোদার দৃষ্টিতে রহমতযুক্ত হবে। আমেন।

 Start Exam