Login Area

   
Not Member ? SignUP Now  
Forgot Password?

Course Five

পাঠ ৫ একজন ব্যক্তির মধ্যে দিয়ে খোদা আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা করেছেন

খোদা আমাদের মহব্বত করেন। তিনি আমাদের মহব্বত করেন বলেই, আমরা যেন গুনাহ্ থেকে নাজাত লাভ করতে পারি সেজন্য তিনি একটি ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। যা আমরা পাঠ ৫ এ দেখব ঃ গুনাহ্ থেকে নাজাত লাভের সমাধান শুধুমাত্র সলীবের মধ্য দিয়ে নয় কিন্তু এমন একজন খোদায়ী ব্যক্তির মধ্য দিয়ে, যিনি হযরত ঈসা মসীহ্, যাঁকে পাক্-রূহ দ্বারা মনোনীত করা হয়েছিল এবং খোদার কালাম অর্থাৎ কালেমাতুল্লাহ বলে সম্বোধন করা হয়।
সত্যিকার অর্থে হযরত ঈসা মসীহ্ কে ছিলেন? আসুন আমরা এ প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস থেকে জানতে চেষ্টা করি।
আল-কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস উভয় কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে, হযরত ঈসা মসীহ্ হলেন খোদার কালাম অর্থাৎ কালেমাতুল্লাহ্, যাঁকে পাক-রূহ্ দ্বারা মনোনীত করে পৃথিবীতে পাঠায়েছিলেন।
এখানে আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো, খোদা মানবজাতিকে গুনাহ্ থেকে নাজাত দানের জন্য কোন দার্শনিক অথবা কোন ধর্মীয় ধারণা অথবা অনেকগুলো শরিয়ত পালন করা অথবা জগতের জীবন থেকে দূরে সরে থেকে সন্ন্যাসী হিসেবে জীবন যাপন করা এরকম কোন কিছুর-ই ব্যবস্থা করলেন না। কিন্তু তিনি শুধু একজন ব্যক্তিকে পাঠালেন যাঁর বিষয়ে আমরা এই পাঠে আলোচনা করছি।
নবীদের কিতাব; ইশাইয় ৬১ ঃ ১ আয়াত- আল্লাহ্ মালিকের রূহ্ আমার উপর আছেন, কারণ তিনিই আমাকে নিযুক্ত করেছেন যেন আমি গরীবদের কাছে সুসংবাদ তবরিগ করি। ..... এবং বন্দীদের কাছে স্বাধীনতা আর কয়েদীদের কাছে মুক্তি ঘোষণা করতে পারি।
এই আয়াতের হযরত ইশাইয় নবী মসীহ্রে আগমন সম্পর্কে বলেছেন।
আল-জবুর; ১০৭ রুকু ২০ আয়াত তাঁর কালাম পাঠিয়ে তিনি তাদের সুস্থ করলেন; তিনি কবর থেকে তাদের উদ্ধার করলেন।
খোদা আমাদেরকে গুনাহ্রে থেকে সুস্থ করবার জন্য মসীহ্ অর্থাৎ তাঁর কালামকে পাঠালেন। এবং তিনি আমাদেরকে গুনাহ্রে শাস্তি থেকে মুক্ত করলেন।
ইঞ্জিল শরীফ; ইউহোন্না ১ ঃ ১ ও ১৪ আয়াত প্রথমেই কালাম ছিলেন, কালাম আল্লাহ্র সংগে ছিলেন এবং কালাম নিজেই আল্লাহ্ ছিলেন। .... সেই কালামই মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন। .... তাঁর যে মহিমা সেই মহিমা আমরা দেখেছি। তিনি রহমত ও সত্যে পূর্ণ।
খোদার কালাম অনন্তকাল ধরে তাঁর সাথে ছিল। তিনি সবসময় কথা বলতে সক্ষম ছিলেন। তিনি এই কালামকে রক্ত-মাংসের একজন মানুষ হিসেবে আমাদের গুনাহ্ থেকে আমাদেরকে মুক্ত করবার জন্য এই পৃথিবীতে পাঠালেন।
আল-কোরআন; সূরা আল-ইমরান ৪৫ আয়াত যখন ফেরেস্তাগন বলিল, হে মারয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাকে তাঁর পক্ষ হতে একটি কালেমার সুসংবাদ দিতেছেনে। তাঁর নাম মসীহ্, মারয়াম তনয় ঈসা, সে দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত এবং সান্নিধ্য প্রাপ্তগনের অন্যতম হবে।
মসীহ্ হলেন খোদার কালাম, যখন তিনি এই পৃথিবীতে ছিলেন তখন তিনি অতি সম্মানিত ছিলেন এবং এখন তিনি খোদার পাশে সবচেয়ে নিকটতম আসনে উপবিষ্ট আছেন। আর ইঞ্জিল শরীফ অনুসারে, তিনি “খোদার ডানপাশে” আছেন (ইব্রানী ১০ ঃ ১২ আয়াত)।
পরে হযরত জিব্রায়েল ফেরেস্তা কুমারী মরিয়মের নিকটে এসে তাঁকে বললেন, তিনি খোদার কালাম অর্থাৎ মসীহ্কে গর্ভে ধারণ করেছেন। আমরা জানি, আর অন্য কোন নবী কখনও কোন কুমারীর গর্ভ থেকে আসেন নাই। মসীহ্রে এইরূপ জন্ম তাঁর অর্থাৎ খোদার কালামের পবিত্রতা সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন। হযরত আদম (আঃ) ও বিবি হাওয়া (আঃ) বেহেস্তের বাগানে খোদার অবাধ্য হবার সাথে সাথে তিনি আল-তৌরাতে (পয়দায়েশ খণ্ড ৩ ঃ ১৫ আয়াত) এই ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন। খোদা বললেন, নারীর বংশ এখানে তিনি কোন পুরুষের বংশের কথা বলেন নাই শয়তানের মস্তক চূর্ণ করবে।
প্রথমে যখন কালাম খোদার থেকে প্রকাশিত হয়েছিলেন তখন ইহা খোদার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। আমরা এখানে খোদার “কালাম” নিয়ে আলোচনা করছি, যাঁকে হযরত ঈসা মসীহ্ হিসেবে পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস উভয় কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনিই একমাত্র মাধ্যম যাঁর মধ্য দিয়ে খোদা আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চান। তিনি খোদার কাছ থেকে কখনও পৃথক হবে না এবং তিনি খোদারই একটি অংশ।
একজন মানুষ তার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করল, “খোদা অথবা তাঁর কালাম কোনটি প্রথম এসেছেন?”
তার বন্ধু উত্তরে বলল, “অবশ্যই খোদা প্রথম এসেছেন।”
তখন সে বলল, “ওহ্! প্রথমে (আরম্ভে) খোদা বাকশক্তিহীন ছিলেন এবং কথা বলতে অক্ষম ছিলেন?”
বন্ধুটি জোর দিয়ে বলল, “না, তিনি কথা বলতে পারতেন।”
অবশ্যই, কারণ খোদা সবসময় পবিত্র ও নিখুঁত ছিলেন। সুতরাং তিনি কখনও কথা না বলে ছিলেন না অর্থাৎ তিনি কখনও তাঁর কালাম ছাড়া ছিলেন না। অতএব, মসীহ্, যিনি খোদার কালাম, তিনি সবসময় খোদার সাথে ছিলেন এবং আছেন।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারে, ঈসায়ীরা তিন খোদার বিশ্বাস করে, খোদা, হযরত ঈসা এবং বিবি মরিয়ম। এ বিষয়ে হযরত ঈসা মসীহ্রে নিজের উত্তর হলো খোদা মাত্র একজন (ইঞ্জিল শরীফ; মার্ক ১২ ঃ ২৯ আয়াত) এবং আল-তৌরাতও একই কথা বলেছেন (আল-তৌরাত; দ্বিতীয় বিবিরণ ৬ ঃ ৪ আয়াত)। হযরত ঈসা মসীহ্ যে খোদার কালাম এবং তাঁর রূহ্ সে বিষয়ে আসুন পবিত্র কিতাবসমূহ কি বলে তা আমরা দেখি ঃ
নবীদের কিতাব; মীখা ৩ ঃ ৮ আয়াত কিন্তু আমি (মসীহ্) ইয়াকুবকে তার অন্যায়, ইস্রায়েলকে তার গুনাহ্ সম্বন্ধে জানাবার জন্য মাবুদের রূহের দেয়া শক্তিতে; ন্যায়বিচার ও সাহসে পূর্ণ হয়েছি।
ইঞ্জিল শরীফ; প্রকাশিত কালাম ১৯ ঃ ১৩ আয়াতÑ তাঁর পরনে ছিল রক্তে ডুবানো কাপড়, আর তাঁর নাম হল “খোদার কালাম”।
প্রেরিত ২০ ঃ ২৮ আয়াত আপনারা নিজেদের সম্বন্ধে সর্তক থাকুন, আর পাক-রূহ যে ঈমানদার দলের ভার পরিচালক হিসেবে আপনাদের উপর দিয়েছেন তাদের সম্বন্ধেও সর্তক থাকুন। রাখাল যেমন তার ভেড়ার পালের দেখাশোনা করে ঠিক তেমনি করে আপনারাও ইমাম হিসেবে খোদার জামাতের দেখাশোনা করুন। খোদা সেই জামাতকে নিজের রক্ত দিয়ে কিনেছেন।
এখানে আমরা দেখি যে, খোদা তাঁর রক্তে ইমানদারদের কিনেছেন। খোদা কি রক্ত দিতে পারে? ইহাতে এটাই বুঝা যায় যে, খোদা, তাঁর কালাম এবং তাঁর রূহ্ সব মিলেই খোদা আসলে একজন।
আল-কোরআন; সূরা বাকারা ৮৭ আয়াত নিশ্চয়ই আমি .... মারয়াম তনয় ‘ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দিয়াছি এবং ‘পবিত্র আত্মা’ দ্বারা তাকে শক্তিশালী করেছি।
অন্য কথায় বলা যায়, খোদা হযরত ঈসাকে তাঁর কালাম দিয়েছিলেন এবং সবসময় তাঁর পবিত্র আত্মা বা পাক-রূহ দ্বারা তাঁকে পরিচালিত করেছিলেন।
হযরত ঈসা মসীহ্ কি খোদার পুত্র? এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তরের পূর্বে আসুন পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস এ বিষয়ে যে তিন ধরনের পুত্রের কথা বর্ণনা করা হয়েছে সে সম্পর্কে আােচনা করি।
১. দৈহিক সম্পর্কের পুত্র ঃ
ইঞ্জিল শরীফ; ইউহোন্না ৩ ঃ ৬ আয়াত মানুষ থেকে যা জন্মে তা মানুষ।
এখানে বলা হয়েছে, রক্তমাংসের পিতামাতা থেকেই একটি রক্তমাংসের শিশু জন্ম গ্রহণ করে। হযরত মরিয়ম ছিলেন একজন রক্তমাংসের মা, যাঁর গর্ভ থেকে হযরত ঈসার জন্ম হয়েছিল। কারণ, তিনি একজন পরহেজগার ও কুমারী ছিলেন। ফলে হযরত ঈসাও ছিলেন নিষ্পাপ। এই বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও ইঞ্জিল শরীফে যা বর্ণনা আছে তাহলো ঃ
আল-কোরআন; সূরা মরিয়ম ১৯ আয়াত সে (ফেরেস্তা) বলিল, ‘আমি তো তোমার প্রতিপালক প্রেরিত তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করবার জন্য;
ইঞ্জিল শরীফ; ইব্রাণী ৪ ঃ ১৫ আয়াত আমাদের মহা-ইমাম এমন কেউ নন যিনি আমাদের দুর্বলতার জন্য আমাদের সংগে ব্যথা পান না, কারণ আমাদের মত করে তিনিও সবদিক থেকেই গুনাহ্রে পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন অথচ গুনাহ্ করেন নি।
আল-কোরআন; সূরা ইখ্লাস ১-৩ আয়াত বল, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়, আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নহেন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কাকেও জন্ম দেন নাই এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নাই।
“খোদার পুত্র” এই বাক্যাংশটি শারিরীক ভাবে মসীহ্ ও খোদার সাথে সম্পর্ক বুঝানো হয়নি। কারণ খোদার কোন দেহ নাই। মসীহ্রে শারিরীক দেহ নিশ্চয়ই খোদার দেহ নয়।
২. প্রতীকী পুত্র ঃ
“পুত্র” শব্দটি অন্যভাবে অধিকার অর্থে ব্যবহার করা যায় (পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস উভয় কিতাবের প্রকৃত ভাষা অনুসারে)। উদাহরণ স্বরূপ
আল-কোরআন; সূরা বাকারা ১৭৭ ও ২১৫ আয়াত “রাস্তার পুত্র”। অর্থাৎ একজন ভ্রমনকারী, পর্যটক বা মুসাফির।
ইঞ্জিল শরীফ; লূক ১৬ ঃ ৮ আয়াত “নূরের পুত্র”।
আল-জবুর; ৮৯ রূকু ২২ আয়াত “দুষ্টের সন্তান”।
আমরা জানি, আক্ষরিক অর্থে বা বাস্তবে রাস্তা, নূর এবং দুষ্ট ইত্যাদির কোন পুত্র নেই। খোদা সম্পর্কে আমাদের বুঝতে সাহায্যের জন্য পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দস অনেক প্রতীকী শব্দ ব্যবহার করছেন। নিুে কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলো ঃ
আল-কোরআন; সূরা ইয়াসীন ৮৩ আয়াত অতএব পবিত্র ও মহান তিনি যার হস্তেই প্রত্যেক বিষয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব। সূরা তা-হা ৫ আয়াত দয়াময় আরশে সমাসীন।
নবীদের কিতাব; ২ খান্দাননামা ১৬ ঃ ৯ আয়াত যাদের দিল মাবুদের প্রতি ভয়ে পূর্ণ থাকে তাদের রক্ষা করবার জন্য তাঁর চোখ দুনিয়ার সব জায়গায় থাকে।
উপরোল্লেখিত আয়াত সমুহে “হাত”, “বসা” ও “চোখ” এই সমস্ত শব্দাবলীর মাধ্যমে খোদাকে বুঝতে আমাদিগকে সাহায্যে করে, যদিও আমরা জানি, খোদার কোন দেহ নাই।
৩. আধ্যাত্মিক পুত্র ঃ
ইঞ্জিল শরীফ; ইউহোন্না ৩ ঃ ৬ আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, “মানুষ থেকে যা জন্মে তা মানুষ, আর যা পাক-রূহ থেকে জন্মে তা রূহ্।”
এই আয়াতের মাধ্যমে দৈহিক সন্তান ও আধ্যাত্মিক সন্তানের মধ্যে যে পার্থক্য তা বুঝানো হয়েছে।
আল-কোরআন; সূরা নিসা ১৭১ আায়াত নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ্ ঈসা আল্লাহ্র রসুল এবং তাঁর কালাম যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট এবং রূহ্ তাঁরই কাছ থেকে আগত।
এখানে হযরত ঈসা মসীহ্ যে সরাসরি খোদার তত্ত্বাবধানে আগত তা বুঝাতে চেয়েছেন। এই আয়াত দ্বারা এ কথা সহজে বুঝা যায় যে, হযরত ঈসা খোদার থেকে আগত খোদার কালাম এং সাথে সাথে খোদার থেকে আগত রূহ্ অর্থৎ যিনি তাঁর কাছ থেকে এসেছেন তিনিও প্রকৃতপক্ষে তাঁর রূহ্। কিন্তু জাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেহেতু তিনি হযরত মরিয়ম এর সন্তান, সেহেতু তিনি একজন মানুষও।
ইঞ্জিল শরীফ; ইব্রাণী ৪ ঃ ১৫ আয়াত আমাদের মত করে তিনিও (হযরত ঈসা মসীহ্) সবদিক থেকেই গুনাহ্রে পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অথচ গুনাহ্ করেন নি।
অতএব, উপরোল্লেখিত পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দসের আয়াত অনুসারে এটাই বুঝা যায় যে, প্রকৃতপক্ষে খোদার একজন আধ্যাত্মিক সন্তান ছিল এবং তাঁদের উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ট আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল।
নবীদের কিতাব; দানিয়েল ৩ ঃ ২৫ আয়াত কিন্তু আমি চারজন লোককে আগুনের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখছি। তারা বাঁধা অবস্থায় নেই এবং তাদের কোন ক্ষতিও হয় নি। আর চতুর্থজনকে দেখতে খোদার পুত্রের মত লাগছে।
এই আয়াত অনুসারে খোদার সেবক বনী-ইস্রায়েলীয় শদ্রক, মৈশক এবং অবেদ-নগোকে অন্যায়ভাবে রাজার আদেশে আগুনে নিক্ষেপ করা হলে, সেখানে ঐ তিনজনের মধ্যে চতুর্থ একব্যক্তিকে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল, যিনি ঐ তিনজনকে রক্ষা করছিলেন। এই চতুর্থ ব্যক্তিটি অন্য কেহ নন, তিনিই মসীহ্ যিনি পূর্বেই মানবদেহে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
মেসাল ৩০ ঃ ৪ আয়াত কে বেহেশ্তে উঠেছেন এবং নেমে এসেছেন? ..... তাঁর নাম ও তাঁর পুত্রের নাম কি?
আল-জবুর; ২ রূকু ৭-৮ আয়াত তিনি (খোদা) আমাকে (মসীহ্) বলেছেন, ‘তুমি আমার পুত্র, .... তুমি আমার কাছে চাও, তাতে সম্পত্তি হিসেবে আমি তোমার হাতে অ-ইহুদী জাতিদের দিব; গোটা দুনিয়াটা তোমার অধিকারে আসবে।
ইঞ্জিল শরীফ; মথি ৩ ঃ ১৬-১৭ আয়াত তরিকাবন্দী নিবার পর ঈসা পানি থেকে উঠে আসবার সংগে সংগেই তাঁর সামনে আসমান খুলে গেল। তিনি খোদার রূহ্কে কবুতরের মত হয়ে তাঁর উপরে নেমে আসতে দেখলেন। তখন বেহেশ্ত থেকে বলা হলো, “ইনি আমার প্রিয় পুত্র, তাঁর উপর আমি খুবই সন্তষ্ট।” রোমীয় ১ ঃ ৩-৪ আয়াত সেই সুসংবাদ হলো তাঁর পুত্রের বিষয়ে। সেই পুত্রই ঈসা মসীহ্, আমাদের প্রভু। শরীরের দিক থেকে তিনি নবী দাউদের বংশধর ছিলেন, আর তাঁর নিষ্পাপ রূহ্রে দিক থেকে তিনি মহা কুদরতীতে মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে ইব্নুল্লাহ্ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলেন।
উপরের আয়াতগুলোসহ ইঞ্জিল শরীফের আরো অনেকগুলো আয়াত আছে যেখানে হযরত ঈসা মসীহ্কে খোদার পুত্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
আল-কোরআন; সূরা আম্বিয়া ৯১ আয়াত এবং স্মরণ কর সেই নারীকে (হযরত মরিয়ম), যে নিজ সতীত্বকে রক্ষা করেছিল, অতঃপর তার মধ্যে আমি (আল্লাহ্) আমার রূহ্ ফুঁকিয়া দিয়াছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্রকে করেছিলাম বিশ্ববাসীর জন্য এক নির্দশন (মোজেজা)।
সূরা বাকারা ২৫৩ আয়াত এই রাসুলগণ, তাদের মধ্যে কাকেও কারও উপর শ্রেষ্টত্ব দিয়াছি। ..... আবার কাকেও উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। মারায়াম তনয় ‘ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করেছি ও পবিত্র আত্মা দ্বারা তাকে শক্তিশালী করেছি।
এই আয়াতসমুহ দ্বারা বুঝা যায় যে, সমস্ত নবীগন যা যা দান খোদার কাছ থেকে পেয়েছেন, তার চেয়ে হযরত ঈসা মসীহ্ সম্পূর্ণ আলাদা ও বিশেষ দান পেয়েছেন, কারণ তাঁর জীবনে খোদার রূহ্ এবং তাঁর মোজেজার ক্ষমতা দান করা হয়েছিল।
সূরা নামল ৮-৯ আয়াত অতঃপর সে [হযরত মূসা (আঃ)] উহার নিকট আসিল, তখন ঘোষিত হলো, ‘ধন্য; যারা আছে এই আলোর (নূর) মধ্যে এবং যারা আছে ইহার চতুস্পার্শে, জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্ পবিত্র ও মহিমান্বিত! ‘হে মূসা! আমি তো আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
অনেকে মনে করে থাকে, খোদা মানুষের রূপ ধারন করতে পারেন না কারণ ইহা তাঁর জন্য অত্যন্ত সংকীর্ণ কাজ। কিন্তু এই আয়াতে বলা হয়েছে, খোদা আগুনে বাস করেছিলেন (হযরত মূসা জ্বলন্ত কোপ দেখেছিলেন)। খোদা যদি একটি কোপে (জংগলে) বিদ্যমান থাকতে (বসবাস করতে) পারেন, তাহলে কি তিনি একটি খাঁটি মানবদেহে বসবাস করতে পারবেন না?
হযরত ঈসা মসীহ্রে জীবন অথবা তাঁর আর্শ্চয্য কাজ আমাদেরকে আমাদের গুনাহ্ থেকে উদ্ধার করতে পারে না। কিন্তু একমাত্র তাঁর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানই আমাদেরকে গুনাহ্ থেকে উদ্ধার করতে পারে। অনেকে মনে করে থাকে যে, হযরত ঈসা মসীহ্ কখনও মৃত্যুবরণ এবং পুনরুত্থিত হন নাই। বরং তারা বিশ্বাস করে যে, তিনি সরাসরি খোদার কাছে জীবিত অবস্থায় চলে গিয়েছেন এবং পুনরায় তিনি পৃথিবীতে ফিরে আবসেন।
সূরা যুখরুফ ৬১ আয়াত ঈসা তো কিয়ামতের নিশ্চিত নির্দশন।
তাঁর আগমনের বিষয়ে অনেকে মনে করে থাকে যে, তিনি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে এসে বিবাহ করবেন এবং তাঁর সন্তানাদি হবে এবং পৃথিবীতে ৪০ বৎসর রাজত্ব করবার পর তিনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং কবরস্থ হবেন। এরপরে কিয়ামতের দিনে তিনি পুরনায় কবর থেকে উঠিবেন।
নিুে আল-কোরআনের কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলো, যেখানে মসীহ্রে মৃত্যু ও পুনরুত্থান সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা করা হয়েছে ঃ
আল-কোরআন; সূরা বাকারা ৮৭ আয়াত এবং নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ্) মূসাকে কিতাব দিয়াছি এবং তারপরে পর্যায়ক্রমে রসুলগনকে প্রেরণ করেছি। মারয়াম-তনয় ‘ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দিয়াছি এবং “পবিত্র আত্মা” দ্বারা তাকে শক্তিশালী করেছি। তবে কি যখনই কোন রসুল তোমাদের নিকট এমন কিছু আনিয়াছে যা তোমাদের মনঃপুত নহে তখনই তোমরা অহংকার করেছ আর কতককে অস্বীকার করেছ এবং কতককে হত্যা করেছ।
সূরা মায়িদা ১২০ আয়াত ..... যতদিন আমি (হযরত ঈসা মসীহ্) তাদের মধ্যে (মানবজতির মধ্যে) ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী, কিন্তু যখন তুমি (আল্লাহ্) আমাকে তুলিয়া লইলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং তুমিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী।
সূরা মরিয়ম ৩৩-৩৪ আয়াত আমার (হযরত ঈসা মসীহ্) প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মলাভ করেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি উত্থিত হব। এই-ই মারইয়াম তনয় ‘ঈসা। আমি বলিলাম সত্য কথা, যে বিষয়ে ইহারা বির্তক করে।
সূরা আল ইমরান ৫৫ আয়াত স্মরণ কর, যখন আল্লাহ্ বলিলেন, ‘হে ঈসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করিতেছি এবং আমার নিকট তোমাকে তুলিয়া লইতেছি এবং যারা কুফরী করেছে তাদের মধ্য হতে তোমাকে পবিত্র করিতেছি। আর তোমার অনুসারীগণকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিতেছি।
এখানে “পর্যন্ত” শব্দের অর্থ হলো এখন পর্যন্ত অথবা পূর্বের। এর দ্বারা বুঝায় যে, ঐ সমস্ত ঘটনাবলী কিয়ামতের দিনের আগে ঘটবে। এখনও পর্যন্ত মসীহ্রে অনুসারীগণ তা বিশ্বাস করে আসতেছে। কিন্তু অনেকে কোরআনের সূরা নিসা ১৫৭ আয়াতের উল্লেখ করে বুঝাতে চেষ্টা করে যে, হযরত ঈসা মসীহ্ মৃত্যুবরণ করেন নাই। তাতে লেখা আছে, “... অথচ তারা তাঁকে (হযরত ঈসা মসীহ্কে) হত্যা করে নাই ও ক্রশবিদ্ধও করে নাই, কিন্তু তাদের এইরূপ বিভ্রম হয়েছিল ....।”
তবে এই সূরার একটি খণ্ড অংশকে নিয়ে বিশদব্যাখ্যা করার পূর্বে আমাদেরকে সম্পূর্ণ সূরা নিসার বিষয়বস্তুকে আলোচনায় আনতে হবে। এই সুরা অনুসারে দেখা যায় যে, ইহুদী এবং ঈসায়ীরা একে অন্যের সাথে তর্কে লিপ্ত ছিল। ইহুদীরা দম্ভোক্তি করে বলেছিল, “আমরা তোমাদের নবী ঈসাকে হত্যা করেছি।” এই কথা বলার মাধ্যমে তারা হয়ত হযরত মোহম্মদ (সঃ)-কে বুঝাতে চেষ্টা করেছিল যে, তাদের (অর্থাৎ ইহুদীদের) পথ সঠিক ছিল এবং ঈসায়ীদের পথ সঠিক ছিল না। কিন্তু হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ইহুদীদের এই দম্ভোক্তিকে খর্ব করার জন্য সূরা নিসা ১৫৭ আয়াতের মাধ্যমে তাদের উত্তর দিয়েছিলেন, “তোমরা বলো না তোমরা তাঁকে হত্যা করেছ; তোমরা তাঁকে হত্যা কর নাই। ইহা তোমাদের এইরূপ বিভ্রম হয়েছিল।” সত্যিকার অর্থে সেই সময়ে কাউকে হত্যা করার ক্ষমতা ইহুদীদের ছিল না; যারা হযরত ঈসা মসীহ্কে হত্যা করেছিল তারা ছিল রোমীয় শাসকবর্গ। কিন্তু হযরত ঈসা মসীহ্কে সলীবে হত্যার দায়দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবে ইহুদীদের উপরে বর্তে।
সূরা লোকমান ২৮ আয়াত তোমাদের সকল সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানেরই অনুরূপ।
এই আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী মানবজাতির পুনরুত্থান সেরকম হবে, যেভাবে একটি প্রাণী ইতিমধ্যে পুনরুত্থিত হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ইতিমধ্যে একজন প্রাণী মৃত্যুবরণ করেছিল এবং পুনরুত্থিতও হয়েছিল। এই প্রাণী কে ছিলেন? কিতাব অনুসারে দেখা যায় একমাত্র হযরত ঈসা মসীহ্রে মৃত্যু ও পুনরুত্থান নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তাহলে সহজেই বুঝ যায়, হযরত ঈসা মসীহ্ মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং পুনরায় পুনরুত্থিতও হয়েছিলেন।
আর ইহুদীদের যে দাবী ছিল, তা তাদের নিয়ম অনুযায়ীও গ্রহণযোগ্য ছিল না। কারণ, কাউকে হত্যা করার ব্যাপারে ইহুদীদের নিয়ম ছিল পাথর মেরে হত্যা করা। কিন্তু এ ধরণের মৃত্যুতে হযরত ঈসা একজন শহীদের মর্যাদা পেতেন যা তারা কখনও চায়নি। সুতরাং রোমীয় সরকারের নিয়মানুসারে হযরত ঈসাতে মৃত্যু দিবার জন্য তারা রোমীয়দের প্ররোচিত করেছিল। আর রোমীয় নিয়ম ছিল, যে কোন অপরাধিকে সলীবে মৃত্যুদন্ড কার্যকরী করা। এই পদ্ধতি ইহুদীদের শরিয়ত অনুসারে যারা খোদার দৃষ্টিতে অভিশাপগ্রস্থ তাদের জন্য প্রযোজ্য ঃ “কারণ গাছে টাংগিয়ে রাখা লোক আল্লাহ্র বদদোয়া প্রাপ্ত (অভিশাপগ্রন্থ)” (আল-তৌরাত; দ্বিতীয় বিবরণ ২১ ঃ ২৩ আয়াত)। যেহেতু ইহুদীদের দৃষ্টিতে হযরত ঈসা মসীহ্ একজন খোদার অভিশাপগ্রন্থ লোক, সেহেতু তারা রোমীয় আইনের আশ্রয় নিয়েছিল।
হযরত ঈসাকে এরকম মৃত্যুর হাত থেকে খোদা-ই রক্ষা করতে নিশ্চয় পারতেন। কিন্তু তিনি তা ঘটতে দিলেন। এ ঘটনা অনেকটা বদরযুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের ঘটনার সাথে সামঞ্জস্য আছে। আল-কোরআন; সূরা আনফাল ১৭ আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, “তোমরা (মুসলমানগন) তা‘দিগকে হত্যা কর নাই, আল্লাহই তা‘দিগকে হত্যা করেছেন, এবং তুমি যখন (তীর বা ধনুক) নিক্ষেপ করেছিলে, তখন তুমি নিক্ষেপ কর নাই, আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন।” অন্য কথায় বলা যায়, খোদা-ই তীরগুলি নিক্ষেপ করে তাদের হত্যা করে তাঁর উদ্দেশ্য সম্পন্ন করেছিলেন।
একইভাবে আমাদের মুক্তির মূল্য হিসেবে এক মহান কোরবাণীর জন্য হযরত ঈসা মসীহ্কে সলীবে দিয়ে হত্যা করতে খোদা-ই রোমীয় সৈন্যদেরকে অনুমোদন করেছিলেন।
সূরা সাফ্ফাত ১০৭ আয়ত আমি (আল্লাহ্) তাকে মুক্ত করলাম এক কুরবাণীর বিনিময়ে।
অনেকে যেভাবে মনে করে থাকে যে, একটি ভেড়া, অথবা উঠ অথবা এমনকি কয়েকশত পশু কোরবাণীর মাধ্যমে গুনাহ্রে থেকে নাজাত লাভ করা যাবে, কিন্তু খোদা তা করেন নি, তবে তিনি স্বয়ং তাঁর কালামের মধ্য দিয়ে সেই কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।
হযরত ঈসা মসীহ্রে মৃত্যুর পর ইহুদী নেতারা তাঁকে ভালভাবে দাফন করে তাঁর কবরে সীল করে দিয়ে নিজেরা বেশ নিশ্চিন্ত হলো। তারা মনে করল, তারা ভিন্নমতের লোকদের সমালোচনা, নিজেদের মধ্যে নানান দ্বিধাদ্বন্ধ ও সাধারন লোকেদের কাছে তাদের আসল চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয় ইত্যাদির থেকে এখন মুক্ত। কিন্তু তাদের এই খুশি বেশী দিন স্থায়ী ছিল না।
সূরা নিসা ১৫৮ আয়াত বরং আল্লাহ্ তাকে (হযরত ঈসাকে) তাঁর নিকট তুলিয়া লইয়াছেন, এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
সুতরাং আমাদের আলোচ্য অংশের মূল বিষয় ছিল, কিভাবে আমরা গুনাহ্ থেকে ক্ষমা লাভ করতে পারি? এরজন্য আমাদের নিজেদের কাজের গুরুত্ব থেকে বরং খোদা হযরত ঈসা মসীহ্রে মধ্যে দিয়ে কি করেছেন সেটাই অতি গুরুত্বপূর্ণ। নিুে উল্লেখিত আল-কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দসের আয়াতসমূহ থেকে বিষয়টি বুঝতে আমাদের কাছে আরো সহজ হবে।
নবীদের কিতাব; ইশাইয় ৬৩ ঃ ৪-৫ আয়াত এখন মুক্ত করবার সময় এসে গেছে; সেজন্য আমি প্রতিশোধের যে সময় ঠিক করেছিলাম তা-ও এসে গেছে। আমি চেয়ে দেখলাম, কিন্তু সাহায্যকারী কাউকে পেলাম না; আমি আর্শ্চয হলাম যে, কেউ আমাকে সাহায্য করল না। সেজন্য নিজের শক্তিতেই উদ্ধারের কাজ করলাম।
ইহিষ্কেল ৩৬ ঃ ২৫-২৬ আয়াত আমি তোমাদের উপরে পরিষ্কার পানি ছিটিয়ে দিব, আর তাতে তোমরা পাক-সাফ হবে; তোমাদের সমস্ত নোংরামি ও মূর্তি থেকে আমি তোমাদের পাক-সাফ করব। আমি তোমাদের ভিতরে নতুন দিল ও নতুন মন দিব; আমি তোমাদের কঠিন দিল দূর করে নরম দিল দিব।
ইশাইয় ৫৩ ঃ ১২ আয়াত তিনি নিজের ইচ্ছায় প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁকে গুনাহ্গারদের সংগে গণনা করা হয়েছিল; তিনি অনেকের গুনাহ্ বহন করেছিলেন, আর গুনাহ্গারদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
আল-জবুর; ১০৬ রূকু ৮ আয়াত তাঁর মহাকুদরতী প্রকাশের জন্য তাদের উদ্ধার করেছিলেন। ৪১ রূকু ৪ আয়াত হে মাবুদ, আমি তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি; আমাকে রহমত দান কর, আমাকে সুস্থ কর। ১০৩ রূকু ২-৪ আয়াত হে আমার প্রাণ মাবুদের প্রশংসা কর ..... তোমার সমস্ত গুনাহ্ তিনি মাফ করেন ..... তিনি কূপ থেকে তোমার জীবন মুক্ত করেন।
ইঞ্জিল শরীফ; ইব্রাণী ৯ ঃ ২২ আয়াত মূসার শরিয়ত মতে প্রায় প্রত্যেক জিনিষই রক্তের দ্বারা পাক-সাফ করা হয় এবং রক্তপাত না হলে গুনাহ্রে মাপ হয় না। ১ তীমথিয় ২ ঃ ৫-৬ আয়াত মসীহ্ ঈসা ...... সব মানুষের মুক্তির মূল্য হিসেবে নিজের জীবন দিয়েছিলেন। ১ করিন্থীয় ১৫ ঃ ৩-৪ আয়াত== আমি নিজে যা পেয়েছি তা সবচেয়ে দরকারী বিষয় হিসেবে তোমাদেরও দিয়েছি। সেই বিষয় হলো এই পাক কিতাবের কথামত মসীহ্ আমাদের গুনাহ্রে জন্য মরেছিলেন, তাঁকে দাফন করা হয়েছিল, কিতাবের কথামত তিন দিনের দিন তাঁকে মৃত্যু থেকে জীবিত করা হয়েছে, আর তিনি পিতরকে ও পরে তাঁর সাহাবীদের দেখা দিয়েছিলেন। ইব্রাণী ২ ঃ ৩ আয়াত তাহলে নাজাতের জন্য খোদা এই যে মহান ব্যবস্থা করেছেন (মসীহ্রে মধ্য দিয়ে) তা যদি আমরা অবহেলা করি তবে কি করে আমরা রেহাই পাব? লূক ৯ ঃ ২৫ আয়াত যদি কেউ সমস্ত দুনিয়া লাভ করে তার বিনিময়ে তার সত্যিকারের জীবন হারায় তবে তার কি লাভ হল?

আল-কোরআন; সূরা আনআম ১২ আয়াত দয়া করা তিনি (আল্লাহ্) তাঁর কর্তব্য বলিয়া স্থির করিয়াছেন। সুরা হূদ ৪৩ আয়াত সে [হযরত নূহ (আঃ)] বলিল, ‘আজ আল্লাহ্র হুকুম হতে রক্ষা করবার কেহ নাই, তবে যাকে আল্লাহ্ দয়া করবেন সে ব্যতীত।’ সুরা মুমিনূন ১০৯ আয়াত আমার বান্দাগনের মধ্যে একদল ছিল যারা বলিত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালূ।’
খোদার প্রকৃত দয়ায় তিনি আমাদের জন্য তাঁর কালামকে, অর্থাৎ তাঁর রূহ্কে মৃত্যুবরণ করতে দিলেন। এই চূড়ান্ত কোরবাণীর জন্য তাঁর মহান দয়া কি ছিল?
সূরা হাজ্জ ৩৬-৩৭ আয়াত এবং কা‘বার জন্য উৎসর্গীকৃত উঠকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। .... এই গুলোর গোশ্ত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া (ধার্মিকতা)।
অতীতের নিয়ম অনুযায়ী যে কোরবাণী তার স্থান হযরত ঈসা মসীহ্ নিজে গ্রহন করেছেন। অনেকে বর্তমানেও সেই একই পশু কোরবানী করে আসছে। অতীতে মানুষ নিজেদেরকে পবিত্র করার জন্য পশু কোরবানী দিয়ে থাকত। কিন্তু কোন পশুর কোরবাণীর মাধ্যমে মানুষের গুনাহ্রে ক্ষমা লাভ করা সম্ভব নয়। আবার অনেকেই তাদের ভাল কাজকে সেই কোরবানী হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। কিন্তু খোদার কাছে এ সমস্ত কোন কিছুর গুরুত্ব নেই। তিনি চান যেন আমরা তাঁকে ভক্তি করি। তাহলে সত্যিকারের ভক্তি কি? খোদা চান, আমরা যেন তাঁর ইচ্ছার কাছে নিজেদের সমর্পণ করি। আর তাঁর ইচ্ছা হলো, আমাদেরকে গুনাহ্ থেকে নাজাত দান করবার জন্য তাঁর যে পরিকল্পনা তা যেন আমরা গ্রহণ করি। এক কথায় আমরা যেন তাঁর দেয়া পুরস্কারের দিকে দৃষ্টিপাত করি।
‘ভক্তি’ শব্দের অর্থ হলো খোদাকে ভয় করা এবং তিনি আমাদের জন্য যা করেছেন তা গ্রহণ করা। খোদার ইচ্ছানুসারে সলীবের উপরে সমীহ্রে যে কোরবানী তা যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে তাঁর ধার্মিকতা আমাদের জীবনে লাভ করতে পারব। খোদা আমাদের জীবনের জন্য যা করেছেন তার গুরুত্ব যদি আমরা স্বীকার করে অন্তরে গ্রহণ করি, তাহলে অবশ্য আমাদের পরবর্তী করণীয় কি সে বিয়ষেও জানতে হবে, যা পরবর্তী পাঠ ৬ এ আলোচনা করা হয়েছে “খোদাকে আমাদের নিজের করে নেয়া।”
পাঠ ৫ এর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নপত্রটি পূরন করে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।
ইতিমধ্যে আপনি পাঠ ৫ সফলতার সাথে শেষ করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি এ পাঠটি আপনি মনোযোগ সহকারে অধ্যায়ন করেছেন। যদি এ বিষয়ে আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকে যা আপনি হয়তো ভালভাবে বুঝতে পারেন নি, তাহলে নীচে প্রশ্ন লেখার জায়গায় তা লিখে পাঠিয়ে দিন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর পেতে সাহায্য করতে চেষ্টা করব।
আমরা বিশ্বাস করি, ধৈর্য্যরে সাথে আপনি পরবর্তী পাঠেও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করবেন। খোদার বিষয়ে ও বিভিন্ন পবিত্র কিতাব থেকে জ্ঞানার্জন নিশ্চয় কখনও বিফল হবে না। আমেন।

  Start Exam