Login Area

   
Not Member ? SignUP Now  
Forgot Password?

Course Six

পাঠ ৬ খোদাকে আমাদের নিজের করে নেয়া

খোদার আশ্চর্যদান এবং তাঁর ক্ষমতা যা তিনি নিজেই আমাদের দান করেছেন তা যখন আমরা উপলব্ধি করতে পারব তখন আমাদের মন অস্থির হতে পারে। সাথে সাথে এর পক্ষে সাড়া দিবার জন্য আমরা নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করতে পারি, “এরপর আমার কি করা উচিত?” তাঁর দেয়া নাজাতের মধ্য দিয়ে কিভাবে আমরা খোদাকে আন্তরিকতার সহিত নিজের করে নিতে পারি? এই সব প্রশ্নের উত্তর আমরা পাঠ ৬ এর মাধ্যমে পাব ঃ অন্য সমস্ত কিছুর পরিবর্তে মসীহ্ যেন আমাদের হৃদয়ে বাস করেন এবং তিনিই যেন আমাদের জীবনের প্রভু হন, সেজন্য আমাদের জীবনে অবশ্যই তাঁকে দাওয়াত দিতে হবে অর্থাৎ আহবান করতে হবে। এই বিষয়টি বুঝতে নিুে উল্লেখিত পবিত্র কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দসের আয়াতসমূহ আমাদের সাহায্য করবে।
নবীদের কিতাব; যিরমিয় ২৪ ঃ ৭ আয়াত আমিই যে মাবুদ তা জানবার দিল আমি তাদের দিব। তারা আমার বান্দা হবে আর আমি তাদের আল্লাহ্ হব, কারণ সমস্ত দিল দিয়েই তারা আমার কাছে ফিরে আসবে।
আল-জবুর; ১৩ রূকু ৫ আয়াত কিন্তু আমি তোমার অটল মহব্বতের উপর ভরসা করেছি; তুমি আমাকে ক্ষমা করবে বলে আমার অন্তর আনন্দিত।
ইঞ্জিল শরীফ; প্রকাশিত কালাম ৩ ঃ ২০ আয়াত দেখ, আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আঘাত করছি। কেউ যদি আমার গলার আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেয় তবে আমি ভিতরে তার কাছে যাব এবং তার সংগে খাওয়া দাওয়া করব, আর সে-ও আমার সংগে খাওয়া-দাওয়া করবে।
আল-কোরআন; সূরা রা‘দ ২৭-২৯ আয়াত তিনি তাহাদিগকে তাঁর পথ দেখাল যারা তাঁর অভিমূখী, যারা ঈমান আনে আল্লাহ্র স্মরণে যাদের চিত্ত প্রকাশ হয়; জানিয়া রাখ; আল্লাহ্র স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়; যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, পরম আনন্দ এবং শুভ পরিণাম তাদেরই।
সুসংবাদ কি! অনুতাপকারীকে খোদা পরিচালনা দান করেন। চিন্তা করুন অনুতাপ এবং ঈমানই আমাদের হৃদয়কে বিশ্্রামের দিকে পরিচালিত করে। আমাদের অবশ্যই খোদার বাধ্য হতে হবে এবং তাঁর প্রেরিত ব্যক্তি যাঁকে খোদা ইহকাল এবং পরকাল উভয়ের নাজাতদাতা, রক্ষাকর্তা এবং মধ্যস্থকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন, সেই মসীহ্Ñ যাঁকে ঈমানে আমাদের হৃদয়ে গ্রহণ করতে হবে। আর তাঁকে হৃদয়ে গ্রহণ করার জন্য খোদার কাছে মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে বলতে হবে; যেন তিনি আপনার হৃদয়কে পরিষ্কার করে অনুতাপ ও ঈমানে জীবন যাপন করতে সাহায্য করেন।
একজন লোক একটি উচ্চ পর্ব্বত চূড়ায় আরোহন করবার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেজন্য তিনি প্রয়োজনীয় সমস্ত সাজসরঞ্জাম নিলেন এবং সাথে একজন পথ নির্দেশককেও নিলেন। তিনি লক্ষ্য স্থির রেখে যাত্রা আরম্ভ করলেন। তারা মাঝে মাঝে খাওয়া-দাওয়ার জন্য সামন্য বিরতি নিয়ে পথ চলা অব্যাহত রাখে। একসময় একটা সরুপথ ধরে চলতে চলতে বুঝতে পারল যে, তারা পথ ভুল করেছে এবং চর্তুদিকে শুধূ ভীতিকর জংগল ও খাড়া পাহাড়। হঠাৎ তারা একটি গভীর খাদের সামনে এসে পৌঁছল। পথ নির্দেশক খাদের কিনারায় এসে তা পরীক্ষা করে দেখল। সে ঐ খাদের মধ্যে একটি শক্ত পাথর দেখতে পেল এবং তা পরীক্ষা করে দেখল ঐ পাথরের উপর থেকে লাফ দিলে অন্যপারে যাওয় যাবে। একইভাবে তার মালিককেও সেই কাজটি যে করতে হবে তা জানাল।
কিন্তু তার মালিকের ভয় হচ্ছে লাফ দিতে গিয়ে যদি নীচে পড়ে যায় তাহলে তো তার মৃত্যু হবে। সেই চিন্তা করে তিনি প্রত্যেকবার লাফ দিবার জন্য প্রস্তুতু হয়েও সাহস করতে পারছে না। অবশেষে পথ নির্দেশক শক্ত পাথরের সাথে নিজেকে বাঁধল এবং সে শক্তভাবে মাটির উপর দাঁড়াল। তারপর তার হাত লম্বা করে আরোহনকারী মালিকের দিকে এগিয়ে দিল। সে তাকে বলল, যেন তার হাতকে শক্ত করে ধরে তিনি লাফ দেন। কিন্তু তখনও সেই আরোহনকারী ভয়ে লাফ দিতে দ্বিধা করছিল। তখন পথ নির্দেশক তার দিকে তাকিয়ে বলল, “মহাশয়, এই হাত অনেক আরোহনকারীকে এভাবে সাহায্য করেছে এবং ইহা কখনও একবারের জন্যও ব্যর্থ হয় নাই। ইহার উপর আস্থা রাখুন এবং লাফ দিন।” শেষ পর্যন্ত পর্ব্বত আরোহনকারী লাফ দিল। দেখা গেল, তারা নিরাপদে অন্য পাশে চলে গিয়েছে। আর আনন্দের সাথে তিনি পর্ব্বতের চূড়ার দিকে গন্থব্যে পুনরায় রওনা হয়েছিল।
আমাদেরকেও মনে রাখতে হবে যে, আমরা এক অত্যন্ত উচুঁ পথের চূড়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছি যা আমাদেরকে খোদার শান্তি ও অনন্ত জীবনের দিকে নিয়ে যাবে। এই চলার পথে খোদার কুদরতি হাতের যে সাহায্য; তাতে ঈমানের কোন রকম অবজ্ঞা বা হীনমন্যতা কাজ করছে কি না সেই দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদেরককে অবশ্যই ঈমান রাখা প্রয়োজন। আমাদেরকে সংকটজনক অবস্থার থেকে রক্ষা করার জন্য খোদার কুদরতি হাতই নির্ভরযোগ্য যা ইতিমধ্যে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। সেই বিষয়ে নিুে উল্লেখিত আল-কোরআন ও কিতাবুল মোকাদ্দসের আয়াতসমুহ সাক্ষ্য বহন করে।
নবীদের কিতাব; ১ খান্দাননামা ২২ ঃ ১৯ আয়াত এখন আপনারা আপনাদের মাবুদ আল্লাহ্র ইচ্ছা জানবার জন্য আপনাদের সমস্ত মন-প্রাণ স্থির করুন। ইহিষ্কেল ১৮ ঃ ৩১-৩২ আয়াত তোমাদের সমস্ত অন্যায় তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে দূর কর এবং তোমাদের দিল ও মন নতুন করে গড়ে তোল। কেন তোমরা মরবে? আমি কারও মৃত্যুতে খুশী হই না। তোমরা তওবা করে বাঁচ। আমি আল্লাহ্ মালিক এই কথা বলছি।
আল-জবুর; ১১৯ রূকু ১৪৫ ও ১৪৯ আয়াত আমার সমস্ত দিল দিয়ে আমি তোমাকে ডাকছি; হে মাবুদ, আমাকে জবাব দাও। ..... তোমার অটল মহব্বত অনুসারে তুমি আমার কথা শুন; হে মাবুদ, তোমার শরিয়ত অনুসারে তুমি আমাকে নতুন শক্তি দাও। ২৮ রূকু ৭ আয়াত মাবুদই আমার শক্তি ও আমার ঢাল; আমার অন্তর তাঁর উপরে ভরসা করে, তাই আমি সাহায্য পেয়েছি; সেইজন্য আমার অন্তর আনন্দে ভরে উঠেছে।
ইঞ্জিল শরীফ; রোমীয় ১০ ঃ ১০ আয়াত কারণ হৃদয়ে ঈমান আনবার ফলে খোদা মানুষকে ধার্মিক বলে গ্রহন করেন আর মুখে স্বীকার করবার ফলে নাজাত দেন। ইব্রাণী ১০ঃ ২২-২৩ আয়াত সেইজন্য ঈমানের মধ্য দিয়ে যে নিশ্চয়তা আসে, এস, আমরা সেই পরিপূর্ণ নিশ্চয়তায় খাঁটি দিলে খোদার সামনে যাই; কারণ দোষী বিবেকের হাত থেকে আমাদের হৃদয়কে রক্ত ছিটিয়ে পাক-সাফ করা হয়েছে এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে আমাদের শরীরকে ধোয়া হয়েছে। ...... এস, আমরা স্থির হয়ে তাঁর কথা স্বীকার করতে থাকি, কারণ যিনি ওয়াদা করেছেন তিনি বিশ্বাসযোগ্য।
আল-কোরআন; সূরা হাশর ২২ আয়াত ইহাদের অন্তরে আল্লাহ্ সুদৃঢ় করেছেন ঈমান এবং তাহাদিগকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ হতে রূহ্ দ্বারা।
খোদা-ই মাত্র একজন যিনি ঈমান দিয়ে থাকেন। যদি তিনি তা না দেন তাহলে আমরা তা কখনও পেতে পারি না। ভাল কাজের মধ্য দিয়ে ঈমান অর্জন করার ব্যাপারে এমনকি পবিত্র কোরআনেও বলা হয় নাই। কিন্তু যখন একজন লোক ঈমানে হযরত ঈসা মসীহকে হৃদয়ে গ্রহণ করে, তখন খোদা তার মধ্যে পাক-রূহ্ দান করে থাকেন। ইহাই হলো, “তাহাদিগকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ হতে রূহ্ দ্বারা” এর তাৎপর্য।
সূরা তাগাবুন ১১ আয়াত যে আল্লাহ্কে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।
সূরা নিসা ১১০ আয়াত কেহ কোন মন্দ কার্য করে অথবা নিজের উপর যুলুম করে পরে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ্কে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে। এই আয়াত দ্বারা ইহা সুস্পষ্ট যে, যদি কেউ সত্যিকারের অনুতপ্ত হৃদয় নিয়ে খোদার কাছে আসে, তিনি কখনও তাকে দূরে সরিয়ে দিবেন না। আমাদের জীবনে নাজাত দান করবার জন্য খোদা তাঁর কাজ সম্পন্ন করেছে। আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? এ প্রশ্নের উত্তর এখন আপনার হাতে। খোদা আমাদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে গ্রহণ করা বা তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকা এর যে কোন একটি আপনাকে মনোনীত করতে হবে। আপনি কোন পথ ধরে আপনার জীবনকে পরিচালনা করতে চান সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।
যখন আমরা হযরত ঈসা মসীহ্তে ঈমানের মধ্য দিয়ে খোদার দেয়া দানকে গ্রহণ করি তখন আমরা তাঁর কাছ থেকে কি প্রত্যাশা করতে পারি; সে বিষয়ে পরবর্তী পাঠ ৭ এ আলোচনা করা হয়েছে।
আপনি যথেষ্ঠ সময় দিযে পাঠ ৬ শেষ করেছেন। এখন আর একটি মাত্র পাঠ অবশিষ্ট রয়েছে। তার পূর্বে পাঠ ৬ এর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নপত্রটি পূরণ করে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।
আমরা বিশ্বাস করি, এই কোর্সের মাধ্যমে আপনি আপনার রূহানিক জীবনের জন্য অনেক কিছু শিক্ষা লাভ করতে পেরেছেন। এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিবার দায়িত্ব আপনার।
খোদার দরবারে মোনাজাত করি, তিনি যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আপনাকে তৌফিক দান করেন। আমেন।

 Start Exam